গ্যাস নিয়ে হাহাকার? হরমুজ সংকটে এবার ভরসা পাইপলাইন! জানুন কীভাবে আপনার হেঁশেলে পৌঁছচ্ছে জ্বালানি

মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের দামামা বাজতেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হওয়ায় বিপাকে ভারতসহ একাধিক দেশ। কারণ, ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশই মেটানো হতো এই পথে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি এখন বিকল্প পথে গ্যাস আমদানিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।
দেশের ভাণ্ডারে কতটুকু গ্যাস? ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি (LNG) আমদানিকারক দেশ। তবে ভারত সম্পূর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত নিজের ঘরেই প্রায় ৩,৬৪০ কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদন করেছে। কৃষ্ণ-গোদাবরী বেসিন এলাকা থেকে দেশের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ মেটানো হয়। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম ও ত্রিপুরা থেকেও স্থলভাগের উৎপাদনের ৮৭ শতাংশ গ্যাস পাওয়া যায়। রিলায়েন্স এবং ওএনজিসি (ONGC) ২০২৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন আরও বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
কীভাবে তৈরি ও সরবরাহ হয় এই গ্যাস? বিদেশ থেকে যখন গ্যাস আনা হয়, তখন সেটিকে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করে তরল করা হয়। এর ফলে গ্যাসের আয়তন আসল আয়তনের ৬ ভাগের ১ ভাগ হয়ে যায়, যা বিশালাকার জাহাজে বহন করা সহজ। বন্দরে আনার পর সেটিকে পুনরায় গরম করে গ্যাসীয় অবস্থায় ফেরানো হয় এবং পাইপলাইনের (PNG) মাধ্যমে সরাসরি মানুষের হেঁশেলে পৌঁছে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি গাড়ি এবং কলকারখানাতেও এই গ্যাসের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
দাম বাড়ার আশঙ্কা কতটা? গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ দিনের গ্যাসের ব্যাকআপ মজুত রয়েছে। তবে একটি দুশ্চিন্তার জায়গা রয়েছে। যদি এপ্রিলের পরেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে এবং আর্জেন্টিনা বা আমেরিকা থেকে আকাশছোঁয়া পরিবহণ খরচ দিয়ে গ্যাস আনতে হয়, তবে পিএনজি বা রান্নার গ্যাসের দাম ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আপাতত সরকার গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিলেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।