দিদির গড়ে পদ্ম-ঝড়? এই ১০ আসনে হারলেই কি নবান্ন হাতছাড়া হবে তৃণমূলের? জানুন ভোটের আসল অঙ্ক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এখন কার্যত দোরগোড়ায়। একদিকে তৃণমূলের দাবি, তারা ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরবে, অন্যদিকে রাজ্য দখলের হুঙ্কার দিচ্ছে বিজেপি। কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, ঘাসফুল শিবিরের জন্য এই লড়াই মোটেও সহজ নয়। বিশেষ করে রাজ্যের এমন ১০টি আসন রয়েছে, যেগুলি তৃণমূলের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত। এই আসনগুলোতে যদি জোড়া-ফুল পরাস্ত হয়, তবে ধরে নিতে হবে নবান্ন থেকে মমতার বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।
১. ভবানীপুর (মমতা বনাম শুভেন্দু): এই কেন্দ্রের লড়াই এবার সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতবার নন্দীগ্রামে হারলেও দল জিতেছিল, কিন্তু এবার খোদ নিজের গড়ে দিদি হারলে তা হবে তৃণমূল জমানার পতনের চূড়ান্ত ইঙ্গিত।
২. বালিগঞ্জ: প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এই আসনে এবার তৃণমূলের বাজি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির শতরূপা আর বামেদের আফরিন বেগমের লড়াইয়ে যদি এখানে ঘাসফুল ফোটা বন্ধ হয়, তবে তা হবে বড় চমক।
৩. বেহালা পশ্চিম: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে এবার এখানে প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৫ বছরের এই তৃণমূল গড়ে থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপির চিকিৎসক প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। এখানে হার মানে কলকাতার বুকেই তৃণমূলের বড় বিপর্যয়।
৪. ডায়মন্ড হারবার: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গড়ে এবার ‘হালদার বনাম হালদার’ লড়াই। তৃণমূলের পান্নালাল হালদারের বিরুদ্ধে বিজেপির দীপক হালদার। এখানে গেরুয়া ঝড় ওঠা মানে রাজ্যজুড়ে পালাবদলের স্পষ্ট হওয়া।
৫. সিঙ্গুর: যে সিঙ্গুর আন্দোলনের হাত ধরে মমতার উত্থান, সেই সিঙ্গুরে বেচারাম মান্না যদি পরাস্ত হন, তবে বুঝতে হবে রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া প্রবল।
৬. হাবরা: প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই আসনে এবার তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এখানে হারলে উত্তর ২৪ পরগণায় তৃণমূলের আধিপত্য শেষ হতে পারে।
৭. বজবজ: ৭৬ বছরের অশোক দেব ১৯৯৬ থেকে অপরাজেয়। এই দুর্ভেদ্য দুর্গে যদি পদ্ম ফোটে, তবে সারা বাংলায় গেরুয়া বিপ্লব আটকানো অসম্ভব হবে।
এছাড়াও নাকাশিপাড়া, হাওড়া মধ্য এবং নৈহাটির মতো আসনগুলোতে তৃণমূলের হার মানেই হলো নবান্নের মসনদ থেকে ঘাসফুলের বিদায় নিশ্চিত। এখন দেখার, এই ১০টি ‘মরণ-বাঁচন’ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।