শুধু বাংলাতেই কেন বিচারক? অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে কি ডিএম-দের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল? কলকাতায় বিস্ফোরক শাহ

শনিবার কলকাতায় পা রেখেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খতিয়ান বা ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে গিয়ে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন তিনি। শাহর সাফ প্রশ্ন, “কেরল বা তামিলনাড়ুতেও অ-বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে এসআইআর-এর কাজে বিচারকদের প্রয়োজন হয়নি। তবে বাংলাতেই কেন বিচারবিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে হলো?”

অমিত শাহ অভিযোগ করেন, এ রাজ্যে জেলাশাসকরা (DM) স্বাধীনভাবে এবং নির্ভয়ে কাজ করতে পারছেন না বলেই সুপ্রিম কোর্ট বাধ্য হয়ে বিচারকদের এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাওয়ার ভয়েই তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সুর চড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতা দিদি যত খুশি অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলছি—খুঁজে খুঁজে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে এই দেশ থেকে বের করা হবে। এটা আমাদের দলের অঙ্গীকার।”

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাম আমলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শাহ। তিনি বলেন, “সোনার বাংলা তৈরির স্বপ্ন নিয়ে মানুষ পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু এখন অরাজকতা আর সিন্ডিকেট রাজ দেখে বাংলার মানুষের মনে হচ্ছে, এর থেকে বামপন্থীরাই ভালো ছিল।” তাঁর মতে, তৃণমূল সরকার উন্নয়ন ভুলে শুধুমাত্র তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার রাজনীতিতে মেতেছে।

এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, বাংলার মনীষীদের নাম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলছেন। কিন্তু মানুষ এখন প্রকৃত সত্য বুঝে গিয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাহর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিল যে, অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতিকেই প্রধান অস্ত্র করে বাংলায় লড়াইয়ে নামতে চলেছে বিজেপি।