বকেয়া DA ঢুকছে অ্যাকাউন্টে! খুশির আমেজ না কি বঞ্চনার ক্ষোভ? বড় অভিযোগ রাজ্য সরকারি কর্মীদের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে ৩১ মার্চের ডেডলাইনের আগেই নবান্ন এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু টাকা হাতে আসতেই খুশির বদলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে কর্মচারী মহলে। অভিযোগ উঠছে, হিসেবে ব্যাপক গরমিল রয়েছে এবং প্রাপ্য টাকার চেয়ে অনেক কম টাকা দেওয়া হচ্ছে।

আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি এই মার্চেই মিটিয়ে দিতে হবে। সেই মতো অর্থ দপ্তর একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করে এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) মেনে বিল তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতির দাবি, HRMS সিস্টেমে ডিএ এরিয়ার গণনায় গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিনয় হালদারের অভিযোগ, গ্রুপ-সি থেকে গ্রুপ-এ কর্মীদের ক্ষেত্রে বিল প্রস্তুতের সময় দেখা যাচ্ছে, এই টাকা ১ অক্টোবর, ২০২৬-এর আগে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। কর্মচারীদের একাংশের দাবি, এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন এবং তাঁদের সঙ্গে স্পষ্ট ‘প্রতারণা’।

সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেই সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মী (Group-B ও Group-C), যাঁদের জিপিএফ অ্যাকাউন্ট নেই। ROPA ২০০৯ অনুযায়ী তাঁরা ডিএ-র দাবিদার হলেও, তাঁদের টাকা দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট পরিকাঠামো এখনও তৈরি করেনি নবান্ন।

অন্যদিকে, এই বিশাল পরিমাণ অর্থ মেটানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সারতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে নবান্ন। আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবারও খোলা থাকছে দপ্তরের অ্যাকাউন্টস বিভাগ। ছুটির দিনেও কাজ করেও প্রাপ্য টাকা কম পাওয়ায় ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়েছে। এখন দেখার, নবান্ন এই যান্ত্রিক ত্রুটি বা হিসেবের গরমিল নিয়ে কোনও সাফাই দেয় কি না।