নিখোঁজ মোজতবা: সুপ্রিম লিডার কি বেঁচে আছেন? আমেরিকার আক্রমণে তেহরানের মহাবিপর্যয়ের কথা শোনালেন ট্রাম্প

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার বিধ্বংসী আক্রমণের পর ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (মোজতবা) হয়তো ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, অথবা তিনি এমন অবস্থায় আছেন যা মৃত্যুর সমান।”
২০২৬-এর এই যুদ্ধে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এই সূত্র ধরেই ট্রাম্পের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “সুপ্রিম লিডার আর সুপ্রিম নেই। তাঁর কোনো খোঁজ নেই। হয় তিনি মৃত, না হলে প্রচণ্ড আহত।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরানের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে গিয়েছে এবং তাদের বিমান বাহিনী ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার, ড্রোন ও মিসাইল তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ইরান এখন কোণঠাসা, তারা ডিল করতে চাইছে।” ইরান অবশ্য দাবি করেছে মোজতবা খামেনেই সুস্থ আছেন, কিন্তু ট্রাম্পের এই বক্রোক্তি এবং মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
একইসঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের অনুরোধেই তিনি আপাতত জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন, যাতে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। তবে মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবি তেহরানের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।