জঙ্গিপুর হিংসায় হনুমানের পতাকা? এবার ‘পরিবর্তন’ নিয়ে প্রশ্ন অভিষেকের

লোকসভা ভোটের ঠিক মুখেই চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রঘুনাথগঞ্জের ফুলতলা এলাকা। মিছিল লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি থেকে শুরু করে দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ— সব মিলিয়ে কার্যত থমথমে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী।
ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার রামনবমীর মিছিলটি শুরু হয়েছিল রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি মাঠ থেকে। অভিযোগ, মিছিলটি ফুলতলা মোড়ে পৌঁছাতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, হঠাৎই পাশের বাড়ির ছাদ থেকে মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এই ঘটনায় মিছিলে থাকা অন্তত ১০-১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
এরপর মিছিলটি শহরের ভেতরের দিকে এগোতে চাইলে দ্বিতীয় দফায় ফের আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রঘুনাথগঞ্জের একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বেশ কিছু জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকাটি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রুট মার্চ চলছে।
কমিশনকে বিঁধে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তিনি লেখেন:
This is the kind of “PARIVARTAN” the BJP seeks to impose on the soil of Bengal. Immediately after the announcement of elections, the @ECISVEEP initiated sweeping administrative changes- replacing the Chief Secretary, Home Secretary, DGP, ADGs, IGs, SPs, DMs, the Kolkata Police… pic.twitter.com/wjjsclm92S
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) March 28, 2026
“নির্বাচন ঘোষণা হতেই কমিশন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজিপি এবং জেলাস্তরের পুলিশ কর্তাদের নজিরবিহীনভাবে রদবদল করেছে। এই রদবদলের আড়ালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভীতি প্রদর্শন এবং অশান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বাংলার মাটিতে বাইরের ‘বুলডোজার মডেল’ বা হিংসার রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক রদবদলের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে শান্তি বিরাজ করলেও বড়সড় পুলিশি মোতায়েন রাখা হয়েছে। ভোটের আবহে এই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।