“আমাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন!” মাঝ-আকাশে মৃত্যুভয়, পাইলটকে নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

বৃহস্পতিবার বিকেলে বড়সড় বিমান বিভ্রাটের মুখে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম বর্ধমানের প্রচার সেরে ফেরার পথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা মাঝ-আকাশেই চক্কর কাটতে থাকে তাঁর বিমান। শুক্রবার সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন খোদ তৃণমূল নেত্রী। একইসঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া পাইলটকে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন তিনি।
কী ঘটেছিল সেই ভয়ংকর মুহূর্তে? বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্ডাল থেকে ১২ আসনের একটি বিজ়নেস জেটে (ফ্যালকন-২০০০) চড়ে কলকাতা ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টে নাগাদ যখন বিমানটি দমদম বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখনই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। বাতাসের গতিবেগ ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি।
পাইলটের প্রশংসা ও মমতার বয়ান: শুক্রবার ফের দুর্গাপুরে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফ্লাইটের পাইলট অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। ট্রাই টু বেস্ট সেভ মাই লাইফ (আমার জীবন বাঁচাতে উনি নিজের সেরাটা দিয়েছেন)। আমার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তিনি।” পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক ছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার।
কেন দেরি হলো অবতরণে? ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
ছোট বিমানের ঝুঁকি: যাত্রীবাহী বড় বিমানের তুলনায় ফ্যালকনের মতো ছোট বিমান ঝোড়ো হাওয়ায় বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
-
সুরক্ষা বিধি: মুখ্যমন্ত্রী একজন ভিভিআইপি (VVIP) হওয়ায় কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চায়নি এটিসি।
-
অগ্রাধিকার: আবহাওয়া সামান্য স্বাভাবিক হতেই অন্যান্য বিমানের আগে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানকেই ‘প্রায়োরিটি’ দিয়ে দ্রুত নামিয়ে আনা হয়।
রাজনৈতিক আক্রমণ: বিমানের আতঙ্ক কাটিয়ে ফিরেই এদিন চেনা মেজাজে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যা চলছে তা সুপার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে।” পাশাপাশি রাজ্যে যাতে রান্নার গ্যাসের (LPG) সংকট না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেন তিনি।
বারবার বিমান বিভ্রাটের কবলে পড়ার ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিল রাজনৈতিক মহলে।