“কারও লেজুড়বৃত্তি করব না!” সেলিমের হুঁশিয়ারিতেই কি ভাঙল বাম-আইএসএফ জোট? নওশাদের পাল্টা চাঞ্চল্য

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই যেন আলগা হচ্ছে বাম-আইএসএফ জোটের বাঁধন। ক্যানিং পূর্বে বিতর্কিত নেতা আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়ে এবার সম্মুখ সমরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।

সেলিমের কড়া আক্রমণ: বৃহস্পতিবার মহম্মদ সেলিম অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে আরাবুলের বিরোধিতা করেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যাঁর হাতে আমাদের কর্মীদের রক্ত লেগে আছে, তাঁকে পাশে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।” শুধু তাই নয়, আইএসএফ-এর নিচুতলার কর্মীদের প্রতি সেলিমের আহ্বান—তাঁরা যেন নেতৃত্বের এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন।

নওশাদের ‘বেপরোয়া’ পালটা: সেলিমের এই ‘দাদাগিরি’ বা ‘শাসানি’ মোটেও ভালোভাবে নেননি ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন:

“আইএসএফ কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করবে না। আমরা কাকে প্রার্থী করব, সেটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনো দলের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা চলব না।”

নওশাদ আরও স্পষ্ট করে দেন যে, গত আট মাস ধরে জোটের চেষ্টা চললেও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ‘খবরদারি’ তাঁরা বরদাস্ত করবেন না।

জোটের অন্দরে ফাটল: বর্তমানে বাম-আইএসএফ সম্পর্কের সমীকরণ বেশ জটিল:

  • আসন জট: আইএসএফ ইতিমধ্যেই ২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বামফ্রন্ট ঘোষণা করেছে ২৪৬টি আসনে।

  • সরাসরি সংঘাত: বেশ কিছু আসনে বাম ও আইএসএফ প্রার্থীর মধ্যে ‘ক্ল্যাশ’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

  • ত্যাগ বনাম অধিকার: সেলিম যেখানে ‘বৃহত্তর ঐক্যের জন্য ত্যাগের’ কথা বলছেন, নওশাদ সেখানে ‘দলের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব’ রক্ষায় অনড়।

রাজনৈতিক প্রভাব: রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্যানিং পূর্বের এই ‘আরাবুল কাঁটা’ যদি না মেটে, তবে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য আসনগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকায় বাম ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর সুবিধা সরাসরি শাসক দল তৃণমূল না কি বিরোধী দল বিজেপি পাবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।