“গণতন্ত্রের হত্যা হচ্ছে!” সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা, ৫০ শতাংশ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ!

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে কার্যত রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুর্গাপুর রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিচারবিভাগের বিবেচনাধীন থাকা ভোটারদের বেছে বেছে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

সুতি ও বসিরহাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য মুখ্যমন্ত্রী এদিন সুনির্দিষ্ট কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন, “সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ৫০০ জন ভোটারের মধ্যে ৪০০ জনের নামই নেই। একই অবস্থা বসিরহাটেও, সেখানে ৬০০ জনের মধ্যে ৪০০ জন বাদ পড়েছেন। এটা কারা করল? সাধারণ মানুষ এর জবাব চাইবে।” মমতার দাবি, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর যে অতিরিক্ত তালিকা আসার কথা, তা এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি।

জেলা জেলায় ট্রাইবুনালের দাবি যাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রতিটি জেলায় ‘ট্রাইবুনাল’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের পুনরায় আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা প্রতিটি জেলায় ট্রাইবুনাল চাই এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে সরকার।” তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি সাহস থাকে তবে কমিশন অবিলম্বে ওই তালিকা প্রকাশ করে জানাক কাদের নাম রাখা হয়েছে আর কাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভোটের মুখে নতুন বিতর্ক মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দিয়ে বিরোধী ভোট কমানোর ছক কষা হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশন এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।