ভোটের ময়দানে শান্ত থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ! ভারত-ভুটান সীমান্তে দাঁড়িয়ে বাহিনীকে সতর্ক করলেন এসএসবি প্রধান!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যখন কাটাছেঁড়া চলছে, ঠিক তখনই জওয়ানদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করলেন সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জয় সিংহল। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তিনি সাফ জানিয়েছেন, নির্বাচনী ডিউটির সময় পরিস্থিতি যত উত্তপ্তই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই জওয়ানদের ‘মাথা গরম’ করা চলবে না। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এড়াতেই ডিজি-র এই বিশেষ দাওয়াই বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ডিজি-র ঝটিকা সফর ও জওয়ানদের মনোবল বৃদ্ধি দুই দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে এসেছেন এসএসবি প্রধান। শিলিগুড়ি ফ্রন্টিয়ারের আইজি বন্দন সাক্সেনা তাঁকে স্বাগত জানান। সফরের শুরুতেই তিনি জলপাইগুড়ি সেক্টর হেডকোয়ার্টার্সে ডিআইজি হৃষিকেশ শর্মার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এরপর রানিনগর ও ময়নাগুড়িতে জওয়ানদের ক্যাম্পে গিয়ে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতির খোঁজ নেন। ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জওয়ানদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ সৈনিক সম্মেলনেও যোগ দেন তিনি।

শান্তিপূর্ণ ভোটের ফর্মুলা: ধৈর্য এবং সতর্কতা এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে সবথেকে বেশি সংখ্যায় এসএসবি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। তাই অশান্তি এড়াতে তাঁদের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। ডিজি জওয়ানদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। উত্তেজনার মুহূর্তেও ধৈর্য হারানো চলবে না।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পরিস্থিতির চাপে পড়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বাহিনীর ওপরই বর্তাবে। তাই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সীমান্ত সুরক্ষা ও নির্বাচন প্রস্তুতি শুক্রবার দিনভর নকশালবাড়ি ও শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সঞ্জয় সিংহল। নির্বাচনের সময় সীমান্ত দিয়ে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অস্ত্র চোরাচালান যাতে না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলির কার্যপ্রণালী খতিয়ে দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেও সাফ জানিয়েছেন, ভোটের দিন পর্যন্ত এই সতর্কতায় কোনো ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। উত্তরবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের আগে এসএসবি প্রধানের এই সফর জওয়ানদের রণকৌশলে বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।