বেকার যুবক-যুবতীদের পকেটে এবার ১৫০০ টাকা! যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে পাণ্ডবেশ্বর থেকে কী বললেন মমতা?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একের পর এক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের তালিকায় নবতম সংযোজন ‘যুবসাথী’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্যের পর এবার রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মমতা সরকার। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্প ঘোষণার পর আবেদন জানালেও অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও ভাতার টাকা ঢোকেনি। এই নিয়ে যখন রাজ্যে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে সুবিধাভোগীদের আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর বড় আশ্বাস পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে সরাসরি এই প্রকল্পের বর্তমান স্থিতি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “যুবসাথী প্রকল্প আমরা সবাইকে দিচ্ছি। নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী আবেদন যাচাইয়ের কাজ চলছে। কিছু জনের টাকা পেতে দেরি হচ্ছে কারণ প্রসেসিং এখনও চলছে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই, যাঁদের টাকা আটকে আছে, খুব দ্রুত তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর স্বস্তিতে রাজ্যের কয়েক হাজার আবেদনকারী।

যুবসাথী প্রকল্পের খুঁটিনাটি গত মাসেই এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। রাজ্যের প্রায় এক কোটি যুবককে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই টাকাটি ‘বেকার ভাতা’ হিসেবে নয়, বরং চাকরি পাওয়ার আগে পর্যন্ত যুবক-যুবতীদের ‘হাত খরচ’ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই এই প্রকল্পের জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার যুবসাথী রাজ্যে ইতিমধ্যেই বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, কন্যাশ্রী এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এবার যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিতে চাইছে নবান্ন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মাপকাঠিতে যারা পড়ছেন এবং এখনও চাকরির অপেক্ষায় আছেন, তাঁরাই এই মাসিক ১৫০০ টাকার সুবিধা পাবেন। সরকারি সূত্রে খবর, স্ক্রুটিনির কাজ শেষ হলেই দফার দফায় টাকা পাঠানো শুরু হবে। ফলে যারা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের জন্য অপেক্ষা এখন মাত্র কয়েক দিনের।