“বাংলায় বদলি তো মাত্র ২৩, অন্য রাজ্যে সংখ্যাটা অনেক বেশি!” হাইকোর্টে বিস্ফোরক তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের দফায় দফায় বদলি নিয়ে নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন সংঘাত এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টের দোরগোড়ায়। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরানোর প্রতিবাদে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষ হলো শুক্রবার। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চললেও, আদালত আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে।

শুনানির শুরুতেই মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে নিয়ে কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “কেন কেবল রাজ্যের পুলিশকর্তাদেরই বদলি করা হলো? সিআইএসএফ বা বিএসএফ-এর ডিজে-কে কেন সরানো হলো না? কমিশন কি তবে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সব ঠিক করছে?” তিনি আরও দাবি করেন, ভোট পরিচালনার দায়িত্ব মুখ্যসচিবের নয়, অথচ তাঁকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত যুক্তি দেন যে, সংবিধান অনুযায়ী কমিশন কেবল করণিক স্তরের কর্মীদের রদবদল করতে পারে, ডিজি বা আইজিপি পদমর্যাদার অফিসারদের ক্ষেত্রে এমন হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পাল্টা জবাবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী পরিসংখ্যান তুলে ধরে আদালতকে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে বদলির সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক কম। বিহারে ৪৮ জন, মহারাষ্ট্রে ৬১ জন এবং উত্তরপ্রদেশে ৮৩ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল, যেখানে বাংলায় এই সংখ্যাটি মাত্র ২৩। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে বিহারের বদলি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হলেও শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনকে আগামী সোমবারের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ওই নথি খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে কলকাতা হাইকোর্ট।