মাঠে গোল-বর্ষণ, চোখে জল! মাকে হারিয়েই ‘সেভেন স্টার’ পারফরম্যান্স অরুণাচলের মেয়ের

কলকাতার বুকে চলতি মরসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি দেখল সল্টলেকের জিডি গ্রাউন্ড। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ছাপিয়ে গেল অরুণাচল প্রদেশের এক তরুণী ফুটবলারের পায়ের জাদু। নাম তার অ্যানি তায়াং। কন্যাশ্রী কাপের ম্যাচে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের এই ফরোয়ার্ড একাই করলেন গুনে গুনে সাত গোল। কিন্তু ম্যাচের পর যখন সেরার পুরস্কার হাতে নিলেন, তখন আনন্দের বদলে বাঁধ ভাঙল চোখের জল।
শোককে শক্তি করে রূপকথা অ্যানির এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক পাহাড়প্রমাণ যন্ত্রণা। গত ১ এপ্রিল মাতৃহারা হয়েছেন এই ২৩ বছরের ফুটবলার। অরুণাচল থেকে ফিরে শোকের পাথর বুকে চেপেই নেমে পড়েছিলেন মাঠে। ২৩ মার্চ গোল না পেলেও ২৬ তারিখের ম্যাচে নিজেকে উজাড় করে দিলেন তিনি। সাত-সাতটি গোল করেও তাঁর আক্ষেপ— “মা আজকের দিনটা দেখে যেতে পারল না।” মায়ের অনুপ্রেরণাতেই ফুটবলে আসা অ্যানির। শেষবার কথা বলার সময়ও মা বলেছিলেন বড় ফুটবলার হতে। সেই স্বপ্নকেই আজ সম্বল করেছেন তিনি।
লক্ষ্য জাতীয় দল অরুণাচলের লোহিত ডিস্ট্রিক্টের তেজু গ্রামের মেয়ে অ্যানি। বাবা পিয়ন, সংসারে রয়েছে চার ভাই-বোন। অভাব আর শোকের সাথে লড়াই করেই কলকাতায় নিজের জাত চেনাচ্ছেন এই মেসি-ভক্ত। কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্যও ছাত্রীর এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। অ্যানির লক্ষ্য এখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা। ব্যক্তিগত শোক ভুলে ফুটবলকেই বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এই পাহাড়ি কন্যা।