‘আমরা কোনো রিসাইকেল বিন নই!’ আরাবুল ইস্যুতে নওশাদদের জোট ভাঙার হুঁশিয়ারি সেলিমের

রাজ্য রাজনীতিতে বাম-আইএসএফ জোটের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে। ভাঙড়ের বেতাজ বাদশা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করায় যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা চরমে পৌঁছল। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “লুটেরা বা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে কোনো আপস নয়, আমরা রাজনীতিতে কোনো ‘রিসাইকেল বিন’ বিশ্বাস করি না।”
বিবাদের মূলে ‘তৃণমূল ফেরত’ নেতারা সিপিএমের মূল আপত্তি কেবল আরাবুল ইসলামকে নিয়ে নয়। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় তৃণমূল থেকে আসা মফিদুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ আলিমুদ্দিন। এ ছাড়াও বাদুড়িয়া, অশোকনগর ও আমডাঙ্গার মতো আসনে বামফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা না করেই নওশাদ সিদ্দিকীরা একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ। সেলিমের দাবি, যারা অতীতে বাম কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, আজ দলবদল করলেই তারা ‘শুদ্ধ’ হয়ে যায় না।
২৪৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামেদের আইএসএফ-এর সঙ্গে দড়ি টানাটানির মাঝেই বৃহস্পতিবার আরও ৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। এর ফলে বামেদের মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪৬। এদিন ঘোষিত আসনগুলো হলো— জঙ্গিপুর (অলোক কুমার দাস), রঘুনাথগঞ্জ (আবুল হাসনাত), নাকাশিপাড়া (শুক্লা সাহা), রানাঘাট উত্তর পশ্চিম (দেবাশিস চক্রবর্তী), রানাঘাট উত্তর পূর্ব (মৃণাল বিশ্বাস), এগরা (সুব্রত পাণ্ডা) এবং ময়ূরেশ্বর (জয়ন্ত ভাল্লা)।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, রঘুনাথগঞ্জ ও নাকাশিপাড়ার মতো আসনে আইএসএফ আগেই প্রার্থী দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এখন বামেরা সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করায় সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আরাবুল ইস্যু থেকে সরে না দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জোট ভেঙে যাওয়ার দায় আইএসএফ-এর ঘাড়েই চাপাতে পারে বাম নেতৃত্ব।