“চলছে আইনি লড়াই, অথচ মা লড়ছেন বিজেপিতে!”-কী বলছেন কিঞ্জল-আশফাকুল্লারা?

আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে যে আন্দোলন রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ নির্যাতিতার মায়ের রাজনৈতিক পদক্ষেপে এবার দ্বিধাবিভক্ত চিকিৎসকমহল। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন জুনিয়র ডক্টর্স ফোরামের মুখ অনিকেত মাহাতো ও দেবাশিস হালদাররা।
“৪-৫ মাস আগেই ছিল অফার” আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দেবাশিস হালদার এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, “কাকু-কাকিমা ৪-৫ মাস আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁদের ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা তখনই বলেছিলাম এটা একটা ‘ট্র্যাপ’ (ফাঁদ)।” দেবাশিসের প্রশ্ন, সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে যেখানে খোদ মা-বাবাই মামলা করেছেন, সেখানে সেই সিবিআই-এর নিয়ন্ত্রণাধীন দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা সময় বলবে।
আন্দোলনের ফান্ড ও আইনি লড়াই: চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্যাতিতার বাবা-মায়ের বর্তমান আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় আইনজীবীর খরচ বহন করছে ‘জুনিয়র ডক্টর্স ফোরাম ফান্ড’। দেবাশিস আক্ষেপের সুরে বলেন, “বিচারের দাবিতে কোনো দলীয় পতাকা ছাড়াই লাখ লাখ মানুষ পথে নেমেছিল। এখন ক্ষমতার অলিন্দে না গেলে বিচার পাওয়া যাবে না—এই বার্তাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
কী বলছেন অন্যান্য আন্দোলনকারীরা?
-
অনিকেত মাহাতো: “নির্বাচনে জিতে তবেই কি বিচার পেতে হবে? তাহলে পুলিশ-প্রশাসন আর বিচারব্যবস্থার ভূমিকা কী রইল? তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নিয়ে কুৎসা করাও সমর্থনযোগ্য নয়।”
-
আশফাকুল্লা নাইয়া: “কাকিমা নিজেই বলছেন তাঁর মেয়েকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, অথচ তিনি নিজেই সেই রাজনীতির উদাহরণ হয়ে দাঁড়ালেন।”
-
কিঞ্জল নন্দ: আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকলেও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
পানিহাটির লড়াই এখন কোন পথে? পানিহাটি কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্যাতিতার মা-কে নামিয়ে বিজেপি এক বড় ‘ইমোশনাল কার্ড’ খেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে আন্দোলনের মুখ জুনিয়র ডাক্তারদের এই বিরূপ মন্তব্য ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।