৩১শে মার্চের ডেডলাইন! অ্যাকাউন্টে কি সত্যিই ঢুকছে বকেয়া DA? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য চরম উৎকণ্ঠার ৪৮ ঘণ্টা

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারীর নজর এখন ক্যালেন্ডারের ৩১শে মার্চের দিকে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ফুরোতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) কর্মীদের পকেটে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। একদিকে আদালতের ঐতিহাসিক রায়, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ধাপে ধাপে টাকা মেটানোর কৌশল—এই দুইয়ের টানাপড়েনে নাজেহাল দশা সরকারি কর্মীদের।
আদালতের নির্দেশ ও নবান্নের পদক্ষেপ: গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ডিএ পাওয়া কর্মচারীদের আইনি অধিকার, কোনো দয়া নয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। চাপের মুখে নবান্ন গত ১৩ই মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর বকেয়া দুটি কিস্তিতে মেটানো হবে, যার প্রথমটি দেওয়া হবে এই মার্চ মাসেই।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ ও ‘ভোটের গিমিক’: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘোষণা করলেও খুশি নন আন্দোলনকারী কর্মীরা। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর নেতা ভাস্কর ঘোষের দাবি, আদালত ২০০৮ থেকে বকেয়া মেটানোর কথা বললেও সরকার কেবল ২০১৬ পরবর্তী সময়ের কথা বলে দায় এড়াচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের বিশাল ফারাক রয়ে গিয়েছে। গত ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে ‘বন্ধ মোবারক’ পালন করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে যৌথ মঞ্চ।
৩১শে মার্চ কি টাকা ঢুকবে? প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অনেক দপ্তরেই এখনও বকেয়া বিল তৈরির কাজ শেষ হয়নি। ফলে ৩১শে মার্চের ডেডলাইনের মধ্যে সব কর্মীর অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হওয়া নিয়ে খোদ সরকারি মহলেই প্রশ্ন উঠছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যায্য পাওনা না মেলে, তবে এপ্রিল থেকে ফের বৃহত্তর কর্মবিরতি ও তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। এখন দেখার, ৩১ তারিখের মধ্যে নবান্ন কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে কি না।