শখের ট্যাটুতে সর্বনাশ! লাল রঙে গলা ফুলে ঢোল ২০ বছরের তরুণের, শেষে যা বেরোল দেখে থ চিকিৎসকরাও!

ফ্যাশন এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাণঘাতী। শখ করে গলায় লাল রঙের ক্রুশ চিহ্ন ট্যাটু করিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সি এক চিনা তরুণ। কিন্তু সেই শখ যে তাঁকে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি। ট্যাটু করানোর তিন মাস পর থেকেই শুরু হয় নরকযন্ত্রণা। গলার দুই পাশ টিউমারের মতো ফুলে ওঠে এবং পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিরল ও ভয়ঙ্কর তথ্য।
ট্যাটু গায়েব, শুরু হল ক্ষত: তরুণটি জানিয়েছিলেন, তিন মাস আগে স্বরযন্ত্রের ঠিক নীচে লাল রঙে একটি ক্রুশ চিহ্ন আঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিন মাস যেতে না যেতেই ট্যাটুটি আপনা থেকেই আবছা হয়ে মুছে যায়। সেখানে রয়ে যায় গভীর ক্ষত বা আলসার। গলার দুই পাশে ১.৬ এবং ১.২ ইঞ্চির দুটি বিশাল ফোলা অংশ তৈরি হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, ভিতরে সিরাম এবং রক্তের সংমিশ্রণে গোলাপি তরল ভর্তি রয়েছে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নেক্রোটিক আলসার’।
MRI ও সিটি স্ক্যানের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: হাসপাতালে ভর্তির পর তরুণের শারীরিক পরীক্ষায় দেখা যায়, ফোলা অংশগুলি আসলে লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে আরও ধরা পড়ে যে, তাঁর গলার শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। আলসার এবং শক্ত হয়ে যাওয়া মাংসপিণ্ড কেটে বাদ দেওয়ার পর তরুণের উরু থেকে কোষ নিয়ে গলায় প্রতিস্থাপন করতে হয়।
কেন এমন হলো? বায়োপসি রিপোর্টে ধরা পড়ে ‘নেক্রোটাইজিং গ্রানুলোম্যাটাস লিম্ফাদেনাইটিস’ (Necrotising Granulomatous Lymphadenitis) নামক একটি প্রদাহজনিত রোগ। চিকিৎসকদের মতে, ট্যাটুর লাল রঞ্জক পদার্থে থাকা পারদ (Mercury) এবং ক্যাডমিয়ামের (Cadmium) মতো ভারী ধাতু শরীরে এক মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। যেহেতু ট্যাটুটি আগেই মুছে গিয়েছিল, তাই অস্ত্রোপচার করা টিস্যুতে কালি পাওয়া যায়নি। JAMA Otolaryngology জার্নালে প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি বিশ্বে ট্যাটু থেকে হওয়া নেক্রোসিসের দ্বিতীয় ঘটনা। শখের ট্যাটু করার আগে কালি এবং স্টুডিওর মান যাচাই না করলে এমন ভয়াবহ পরিণতি যে কারও হতে পারে।