টাকা দিলেই মিলছে ছাড়পত্র! হরমুজে ইরানের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ তুলে সরব জিসিসি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি ইজরায়েলি নিশানায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস-এর (IRGC) নৌ-প্রধান। আজ, ২৬ মার্চ ২০২৬, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দাবি করেছেন যে, এক বিধ্বংসী হামলায় খতম হয়েছেন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নৌ-কম্যান্ডার আলিরেজা তাংসিরি। ইজরায়েলি সেনার (IDF) এই অভিযানকে আমেরিকার জন্যও এক বড় জয় হিসেবে দেখছেন তিনি।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, গতরাত থেকে চলা লাগাতার বিমান হামলায় নৌসেনা কম্যান্ডার তাংসিরি সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় কাটজ লিখেছেন, “আইডিএফ সেই কম্যান্ডারকে খতম করেছে যিনি সরাসরি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা আমরা চালাচ্ছিলাম, এটি তার বড় সাফল্য।”

হরমুজ প্রণালী ও তেলের রাজনীতি: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। ইরান পাল্টা হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় এবং পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার হুমকি দেয়। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এই পথ খোলার কথা বললেও ইরান তাতে কর্ণপাত করেনি। আলিরেজা তাংসিরিই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর নির্দেশে এই জলপথে বিদেশি জাহাজে বোমা হামলার ছক কষা হতো।

ইরানের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ: এদিকে যুদ্ধের আবহে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এনেছে ‘গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল’ (GCC)। সংস্থার মহাসচিব জাসেম মহামেদ আল-বুদিই দাবি করেছেন, ইরান একদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে, অন্যদিকে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাইছে। সৌদি আরবের রিয়াধে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই আচরণকে ‘রাষ্ট্রসংঘের জলপথ আইনের লঙ্ঘন’ এবং ইরানের ‘আগ্রাসী মনোভাব’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

ইরানের পক্ষ থেকে আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যু নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শীর্ষ কম্যান্ডারের মৃত্যু ইরানের সামরিক কৌশলে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে।