ভারত-ইরান বন্ধুত্বে কুপোকাত শত্রুপক্ষ! যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সুরক্ষিত ভারতের তেলবাহী জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই ভারতের কূটনীতির এক বিরাট জয় অর্জিত হলো। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা তুমুল সংঘাতের মাঝেই দিল্লির জন্য সুখবর শোনাল তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) ভারতের জন্য খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিল ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের আকাল থাকলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য বন্ধ করা হয়নি। ইরান পাঁচটি বিশেষ ‘বন্ধু দেশ’-এর জন্য এই পথ খোলা রেখেছে, যার তালিকায় সগৌরবে রয়েছে ভারতের নাম। ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাক এই সুবিধা পাচ্ছে। এমনকি তালিকায় বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভারতের এই বিশেষ সুবিধার কারণ কী? বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের আবহে ইরান এই জলপথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারের সফল বিদেশনীতির কারণে ইরানের সঙ্গে দিল্লির সুসম্পর্ক অটুট রয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, “ভারত সহ বন্ধু দেশগুলি আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। তাই তাদের জাহাজগুলিকে আমাদের সেনাবাহিনী পাহার দিয়ে সুরক্ষিতভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।”

কাদের জন্য বন্ধ হরমুজ? ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির জাহাজ কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালীতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। শত্রু দেশগুলির জন্য এই পথ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন: কমবে কি তেলের দাম? হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খোলা থাকার অর্থ হলো—ভারত থেকে আসা বা ভারতের দিকে যাওয়া তেলের জাহাজগুলি কোনো হামলার শিকার হবে না। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে ভারতের বাজারে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও ভারত যেহেতু সরাসরি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে, তাই সাধারণ মানুষের ওপর কোপ কিছুটা কম পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের বাজারেও ভারতের এই ‘সেফ প্যাসেজ’ পাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে দিল্লির ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রমাণ দিচ্ছে।