হাতে আছে মাত্র ৬০ দিনের তেল! হরমুজ প্রণালী সংকটে কি কপালে ভাঁজ দিল্লির? ‘টিম ইন্ডিয়া’র জন্য বিশেষ বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনিয়ে আসা বারুদের গন্ধ এবার ভারতের হেঁশেলেও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই নজিরবিহীন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলা করতে আগামী কাল, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূলত শক্তি নিরাপত্তা (Energy Security) এবং বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে।

জ্বালানি মজুত ও বর্তমান পরিস্থিতি: ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হলেও, ভারত আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, দেশে বর্তমানে আগামী ৬০ দিনের পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে, তাই একটি রুটের ওপর নির্ভরতা কম। তবে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানে কিছুটা ঘাটতি দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই সংকট রুখতে কালোবাজারি বন্ধে রাজ্যগুলিকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

‘টিম ইন্ডিয়া’র ডাক ও আদর্শ আচরণবিধি: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কোভিডের সময়ের মতোই কেন্দ্র ও রাজ্যকে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে একযোগে কাজ করতে হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সহ যে সমস্ত রাজ্যে বর্তমানে নির্বাচন চলছে, সেখানে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কার্যকর থাকায় মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি এই নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন না। তাঁদের পরিবর্তে মুখ্য সচিবদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করবে ক্যাবিনেট সচিবালয়।

বিকল্প সমাধানের পথে কেন্দ্র: সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত পথের বাইরে বেরিয়ে ‘ব্যতিক্রমী সমাধান’ খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।