কেজিএফ-এর আসল রহস্য! সোনার খনি আর বিদ্যুতের আলোয় কীভাবে ‘লিটল ইংল্যান্ড’ হয়ে উঠেছিল এই প্রান্ত?

আজকের সিলিকন ভ্যালি বেঙ্গালুরুকে আমরা প্রযুক্তির রাজধানী হিসেবে চিনি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, বেঙ্গালুরুর রাস্তায় বৈদ্যুতিক আলো জ্বলারও তিন বছর আগে কর্ণাটকের এক খনি অঞ্চল বিদ্যুতের আলোয় ঝলমলিয়ে উঠেছিল। ভারতের প্রযুক্তিগত ইতিহাসের সেই বিস্ময়কর অধ্যায়টি জড়িয়ে আছে কোলার গোল্ড ফিল্ডস বা আমাদের অতি পরিচিত ‘কেজিএফ’ (KGF)-এর সঙ্গে। ১৯০৫ সালে বেঙ্গালুরু যখন অন্ধকারে, তখন কোলার ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক আধুনিক বিস্ময়।

শিবনাসমুদ্র ও এশিয়ার প্রথম বিপ্লব: ভারতের বৈদ্যুতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯০২ সালে কর্ণাটকের মাণ্ড্য জেলার শিবনাসমুদ্র জলপ্রপাত এক মহাবিপ্লবের সাক্ষী হয়েছিল। এখানেই স্থাপিত হয়েছিল এশিয়ার প্রথম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কাবেরী নদীর জলকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত সেই বিদ্যুৎ ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল কোলারে। সেই সময়ে এটিই ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম বৈদ্যুতিক লাইন, যা সমকালীন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অকল্পনীয় নিদর্শন।

কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল কোলারকে? কোলারে তখন মাটির গভীর থেকে সোনা তোলার জন্য বিপুল শক্তির প্রয়োজন ছিল। খনির যন্ত্রপাতি চালানো এবং কর্মীদের আবাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতেই ব্রিটিশরা এই বিদ্যুতায়নের পথে হাঁটে। বিদ্যুৎ, পরিশ্রুত পানীয় জল এবং উন্নত জীবনযাত্রার কারণে কোলার গোল্ড ফিল্ডস এলাকাটি তখন ‘লিটল ইংল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পায়। লন্ডনের ধাঁচে গড়ে ওঠা এই পরিকাঠামোই পরবর্তীকালে ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কেজিএফ’ সিরিজের প্রধান অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

কলকাতা বনাম কোলার: যদিও ১৮৭৯ সালে কলকাতার রাস্তায় প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়েছিল, কিন্তু একটি শিল্পাঞ্চল বা জনপদ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুতায়নের কৃতিত্ব কোলারের। ১৯০৫ সালে দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর আগেই এই দুই কেন্দ্র ভারতকে বিশ্বের দরবারে প্রযুক্তিনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আজ যখন আমরা স্মার্ট সিটি বা ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলি, তখন কোলারের সেই পুরনো পাওয়ার হাউসগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক শতাব্দী আগের সেই অদম্য জেদ আর মেধার কথা।