পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ! কাল মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে মোদি, কী বার্তা দেবেন ‘টিম ইন্ডিয়া’কে?

পশ্চিম এশিয়ার রণহুঙ্কার আর তার জেরে ঘনিয়ে আসা বিশ্বজোড়া জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় এবার সরাসরি আসরে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অতি-গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। মূলত যুদ্ধের প্রভাবে তেল আমদানি ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা রুখতেই এই ‘যুদ্ধকালীন’ তৎপরতা।

হরমুজ প্রণালী ও ভারতের উদ্বেগ: ইরান সম্প্রতি ভারতের মতো পাঁচটি ‘বন্ধু দেশের’ জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের তেল সরবরাহ যেকোনো মুহূর্তে বাধা পেতে পারে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় রাজ্যগুলি কতটা প্রস্তুত, বিশেষ করে যে রাজ্যগুলি আমদানিকৃত তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের কী রণকৌশল হওয়া উচিত— তা নিয়েই কাল আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পাইপলাইন গ্যাস ও কড়া নির্দেশিকা: সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পাইপলাইন গ্যাসের (PNG) সংযোগ নিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে বড় ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র। বিজ্ঞপ্তির তিন মাসের মধ্যে পাইপলাইন সংযোগ না নিলে এলপিজি কানেকশন বাতিল হওয়ার মতো কড়া হুঁশিয়ারিও আসতে পারে। বিনিময়ে সিকিওরিটি ডিপোজিট ছাড়াই সংযোগ এবং ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে গ্যাসের মতো ‘লোভনীয়’ অফার দেওয়া হতে পারে।

বাংলার অবস্থান: তবে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর থাকায় ভোটমুখী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি নীতি নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ক্যাবিনেট সচিবের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে পৃথকভাবে নির্দেশিকা পাঠানো হতে পারে। এর আগে সর্বদলীয় বৈঠকেও তৃণমূলের অনুপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।