ভোটের মুখে কমিশনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক অপসারিত, নেপথ্যে কোন কারণ?

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এবার সরাসরি কোপ পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের ওপর। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে জেলাশাসক ইউনিস রিশিন ইসমাইলকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নিরঞ্জন কুমার। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকেও (RO) বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ? কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ডেটাবেস তৈরির ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ জমা পড়েছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন। শুধুমাত্র বদলিই নয়, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রদবদল: পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে বড় ঝাড়াই-বাছাই শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। কমিশনের দাবি, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই গণ-বদলি। যেসব আধিকারিক দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় রয়েছেন বা যাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে, তাঁদেরই মূলত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: ভোটের মুখে এই প্রশাসনিক রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী শিবির একে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব রুখতে এমন কড়া পদক্ষেপ জরুরি ছিল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ—প্রতিটি স্তরকে ত্রুটিমুক্ত রাখতেই এই সক্রিয়তা। ভোট যত এগিয়ে আসছে, কমিশনের এই ‘অ্যাকশন’ মুড দেখে ঘুম উড়েছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের।