বকেয়া ডিএ নিয়ে খুশির খবর: কীভাবে আবেদন করবেন? সরাসরি ব্যাঙ্কে না জিপিএফ-এ? জেনে নিন নবান্নের নতুন নিয়ম!

রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য প্রতীক্ষার অবসান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার বকেয়া ডিএ (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে ৯ দফার বিশদ নির্দেশিকা বা এসওপি (SOP) জারি করল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পরই অর্থ দফতর এই গাইডলাইন প্রকাশ করেছে, যার ফলে ২০০৯ সালের রোপা অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতার টাকা পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
কীভাবে মিলবে টাকা? (৯ দফা এসওপি-র মূল কথা): নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিডিও-রা (DDO) সরাসরি HRMS পোর্টালের মাধ্যমে বিল তৈরি করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল এবং অত্যন্ত সহজ।
-
GPF অ্যাকাউন্টে জমা: কর্মরত কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
-
সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার: গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মী এবং প্রাক্তন কর্মীদের (পেনশনার) ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি তাঁদের লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
-
অটোমেটিক সিস্টেম: সিস্টেম থেকেই কর্মীদের তালিকা দেখা যাবে। এক ক্লিকেই বিল জেনারেট করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ফর্মগুলিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যাবে। ডিডিও-রা চাইলে কোনও কর্মীকে তালিকাভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুবিধাও পাবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারী নন, এই বকেয়া ডিএ পাবেন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, এমনকি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরাও।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জয়: ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া আইনি লড়াই জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। রাজ্য সরকার প্রথমে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলেও, শেষ পর্যন্ত আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই টাকা দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল। ভোট ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এবং দ্রুত এসওপি জারি সরকারি মহলে খুশির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। জিপিএফ আপডেট এবং ই-সার্ভিস বুক পর্যালোচনার কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ দফতর।