সিলিন্ডার বিদায়ের পালা! আপনার এলাকায় কি পৌঁছে গেছে গ্যাসের পাইপলাইন? এক ক্লিকেই জেনে নিন

রান্নাঘরের চিরচেনা এলপিজি সিলিন্ডারের দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? পশ্চিমবঙ্গের একের পর এক জেলায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG)। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এখন বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাচ্ছে গ্যাসের পাইপলাইন। তবে নিয়ম বলছে, আপনার এলাকায় যদি পিএনজি সংযোগ চালু হয়ে গিয়ে থাকে, তবে আপনাকে অবশ্যই সেই সংযোগ নিতে হবে। অন্যথায় আপনার বর্তমান এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাই দেরি না করে জেনে নিন, আপনার এলাকায় এই পরিষেবা চালু হয়েছে কি না।
পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কোথায় মিলছে পিএনজি? বর্তমানে ‘বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড’ (BGCL), যা গেইল (GAIL) ও রাজ্য সরকারের এক যৌথ উদ্যোগ, তারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংযোগ দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।
-
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা: কেএমডিএ (KMDA) এলাকার অন্তর্গত হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কিছু অংশে দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
-
নদিয়া: কল্যাণীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই পিএনজি পরিষেবা সফলভাবে চালু হয়েছে।
-
দুর্গাপুর ও বর্ধমান: দুর্গাপুরের পানাগড়ে তৈরি হয়েছে বিশাল ‘সোর্স পয়েন্ট’। এখান থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁকসা ব্লকের গোপালপুরে প্রায় ১,৫০০ বাড়িতে সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য সুখবর! হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) ২০২৬-এর মার্চের মধ্যেই শিলিগুড়ি মহকুমায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু করবে। জলপাইগুড়ি শহরের উপকণ্ঠেও প্রায় ২,৫০০ বাড়িতে সংযোগের পরিকাঠামো তৈরি।
বাড়িতে বসে কীভাবে জানবেন? আপনার এলাকায় পিএনজি সংযোগ আছে কি না তা জানতে এখন আর কোনও অফিসে দৌড়াতে হবে না। আপনি সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা যেমন— আদানি টোটাল গ্যাস, মহানগর গ্যাস (MGL) বা বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পিন কোড দিয়ে স্থিতি যাচাই করতে পারেন।
পাইপলাইনের গ্যাস এলপিজির তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। এতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ঝামেলা নেই এবং ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করেই মাসের শেষে বিল মেটানো যায়। ফলে আগামী দিনে সিলিন্ডার ছেড়ে পাইপলাইনের দিকেই ঝুঁকছে গোটা বাংলা।