NRC থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প: “আমি থাকতে হবে না”, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে বাংলা জুড়ে। আর উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে আজ প্রতিপক্ষ শিবিরের ঘুম উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ময়নাগুড়ির জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের মহিলাদের জন্য তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সাময়িক কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি চলবে চিরকাল। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির প্রকল্পের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অন্য রাজ্যগুলি বাংলার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে ‘টুকলি’ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।
এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন করেন উপস্থিত মহিলাদের। তিনি বলেন, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিই না, করে দেখাই। এপ্রিলের বদলে ১ মার্চ থেকেই বাড়তি টাকা পেয়েছেন তো?” মহিলাদের বিপুল সাড়াকে হাতিয়ার করে তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ৬০ বছরের পরেও বন্ধ হবে না। এটি মানুষের আজীবনের অধিকার। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ওরা বলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার! বিহারের মহিলারা ভেবেছিলেন ৮ হাজার টাকা পাবেন, কিন্তু ভোটের পর এসেছে শুধুই বুলডোজার। সেখানে সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।” কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শর্তের বেড়াজাল নিয়ে তোপ দেগে তিনি জানান, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পে স্কুটি থাকলেও সুবিধা মেলে না, কিন্তু বাংলার ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ৯ কোটি মানুষের জন্য অবারিত।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে এদিন এনআরসি (NRC) এবং ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি বেঁচে থাকতে এনআরসি করে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। আমার পরের প্রজন্মও এই বিভাজনের রাজনীতি মেনে নেবে না।” নির্বাচনের মুখে উত্তরবঙ্গের তিনটি জনসভা থেকে এভাবেই একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান এবং অন্যদিকে অধিকার রক্ষার ডাক দিয়ে ঝড় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।