“পুলিশ কি নিজেদের রাজা মনে করে?” শিশু নিগ্রহ মামলায় গুরুগ্রাম পুলিশকে ধুয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

চার বছরের এক শিশুর যৌন নিগ্রহের মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন ক্ষোভপ্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। গুরুগ্রাম পুলিশের আচরণকে ‘চরম অসংবেদনশীলতার উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং তদন্তের গাফিলতি নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেন।

কেন এই ক্ষোভ আদালতের? আদালতে নির্যাতিত শিশুর বাবা-মা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত অপমানজনক আচরণ করেছে এবং মামলার শুরু থেকেই অসহযোগিতা করেছে। এই শুনে প্রধান বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ কেন নির্যাতিত শিশুটির বাড়ি গেল না? তাঁরা কি নিজেদের রাজা মনে করেন?” অভিযোগকারী বাবা-মাকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, তাকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে আদালত।

ধারার কারচুপি নিয়ে প্রশ্ন: আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আপত্তি জানায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের ৬ নম্বর ধারার বদলে ১০ নম্বর ধারায় কেন মামলা রুজু করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। উল্লেখ্য, ৬ নম্বর ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ২০ বছরের সাজা হয়, যেখানে ১০ নম্বর ধারায় সাজার মেয়াদ মাত্র ১০ বছর। সাজার মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে আদালত।

সরকারের সাফাই: হরিয়ানা সরকারের পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, শিশু কল্যাণ কমিটির (CWC) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে আদালত পুলিশের এই গাফিলতিকে লঘু করে দেখতে নারাজ। বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এই মামলায় গুরুগ্রাম পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।