“ভারত দালালি করবে না!” মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে ইসলামাবাদের ‘উকালতি’ দেখে ফুঁসে উঠলেন জয়শঙ্কর

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের বারুদে আচ্ছন্ন, তখন ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বড় ঘোষণা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার সংসদের এক গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “ভারত কোনওভাবেই ‘দালাল রাষ্ট্র’ (Broker State) হিসেবে কাজ করবে না।” আমেরিকার সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে ভারতের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পাক চালের পাল্টায় ভারতের হুঙ্কার: এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল যখন পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ প্রস্তুত। এমনকি পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক পর্দার আড়ালে একযোগে কূটনৈতিক ঘুঁটি সাজাচ্ছে বলেও খবর। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দিলেন, ভারত কোনও পক্ষের হয়ে দালালি বা উকালতি করতে রাজি নয়। ভারত নিজের স্বাধীন বিদেশনীতি ও জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।

যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ: খামেনেই-এর মৃত্যু ও অশান্তি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালায়। সেই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং সামরিক পদক্ষেপ ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, তবুও অস্থিরতা কমেনি।

হাই-প্রোফাইল বৈঠক ও ভারতের রণকৌশল: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। বৈঠকে জয়শঙ্কর বুঝিয়ে দেন, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য জরুরি হলেও ভারত কোনও দেশের হাতের পুতুল হয়ে কাজ করবে না। শান্তি বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করলেও ভারত নিজের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।