টিকিটের হাহাকার থাকলেও ফাঁকা থাকবে ১১টি আসন! চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের এই নিয়ম চোখে জল আনবে আপনারও।

আইপিএল-এর দামামা বাজার আগেই এক অভূতপূর্ব এবং আবেগঘন ঘোষণা করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) কর্তৃপক্ষ। বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এবার থেকে যে কোনো ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির ১১টি আসন সবসময় ফাঁকা রাখা হবে। টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ওই আসনগুলোতে কোনো দর্শক বসতে পারবেন না। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের সিইও রাজেশ মেনন বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ক্রিকেট ভক্তদের আবেগতাড়িত করে তুলেছেন।
কেন এই অদ্ভুত নিয়ম? এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ইতিহাস। ২০২৫ সালের ৪ জুন আইপিএল ট্রফি জয়ের পর আরসিবি সমর্থকদের বিজয় উৎসবে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বেঙ্গালুরু। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের ভিড়ে হঠাৎই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সেই মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জন আরসিবি সমর্থক প্রাণ হারান এবং আহত হন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। সেই মৃত ১১ জন ভক্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই স্টেডিয়ামের ১১টি আসন চিরকালের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যেখানে কেউ বসবেন না।
অনুশীলনেও বিশেষ সম্মান: রাজেশ মেনন আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আসন ফাঁকা রাখাই নয়, আরসিবি-র ম্যাচের দিনগুলোতে মূল খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটাররা যখন মাঠে নামবেন, তখন প্রত্যেকেই ১১ নম্বর জার্সি পরে অনুশীলন করবেন। মৃত সমর্থকদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতেই এই অভিনব উদ্যোগ। তবে মূল ম্যাচ শুরু হলে ক্রিকেটাররা তাঁদের নিজস্ব জার্সি নম্বরেই মাঠে নামবেন।
স্মৃতির আঙিনায় চিন্নাস্বামী: চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ভারতের অন্যতম আইকনিক ক্রিকেট ময়দান। সেখানে এমন মানবিক সিদ্ধান্ত আইপিএল-এর ইতিহাসে বিরল। আরসিবি ভক্তদের মতে, ট্রফি জয়ের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই বিষাদকে মনে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক— চিন্নাস্বামীতে যে স্তরের ক্রিকেটই হোক না কেন, এই ১১টি শূন্য আসন সেইসব সমর্থকদের কথা মনে করিয়ে দেবে যাঁরা প্রিয় দলের জয় উদযাপন করতে এসে আর বাড়ি ফেরেননি।