“মেদিনীপুরের দয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন!” রামনগরের সভা থেকে মমতাকে ‘বিশ্বসেরা গদ্দার’ তকমা শুভেন্দুর

নিজের খাসতালুক পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বালিসাই স্কুল ময়দানে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে এক কর্মীসভায় যোগ দেন তিনি। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর সাফ দাবি, মেদিনীপুরের মানুষের দয়াতেই মমতা আজ মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন।

গদ্দার বিতর্কে পাল্টা তোপ: ভবানীপুর উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার (RO) নিয়োগ নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সম্প্রতি ‘গদ্দারের ঘনিষ্ঠ বিডিও’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এদিন তার পাল্টায় শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী। টিকিট দিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কংগ্রেস ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পর আশ্রয় দিয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। তিনি রাজীব গান্ধী ও অটলজী—উভয়ের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গদ্দারি ওঁর মজ্জায়।”

SIR ইস্যুতে প্রশ্ন: এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে মমতার সরব হওয়াকে তীব্র বিঁধেছেন শুভেন্দু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “SIR নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন? কেন এত লাফাচ্ছেন আর চিৎকার করছেন?” শুভেন্দুর মতে, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তৃণমূল নেত্রী এখন নির্বাচন কমিশন ও আধিকারিকদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।

মেদিনীপুরই শেষ কথা: এদিন কাঁথি, মেদিনীপুর ও তমলুক সাংগঠনিক জেলায় ম্যারাথন সভা করেন শুভেন্দু। রামনগরে দাঁড়িয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হাত ধরেই মমতার উত্থান। কিন্তু এখন তিনি সেই মাটির মানুষকেই অপমান করছেন। শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ আসন্ন নির্বাচনে মেদিনীপুরের লড়াইকে আরও তপ্ত করে তুলল।