যুদ্ধ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যে, কিন্তু কেন টান পড়ছে আপনার রান্নার গ্যাসের বাজেটে?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আর বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা অস্থিরতা কি আপনার রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে? উত্তরটা হলো—হ্যাঁ। ভারত তার প্রয়োজনীয় গ্যাসের এক বিশাল অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে লোহিত সাগর বা ইরান সীমান্তে উত্তেজনার আঁচ সরাসরি এসে পড়ে আপনার এলপিজি সিলিন্ডার বা পিএনজি কানেকশনের দামের ওপর। কিন্তু এই যে এলপিজি, পিএনজি বা সিএনজি—এদের মধ্যে আসল পার্থক্যটা কোথায়?
সহজ কথায় পার্থক্য: সবথেকে পরিচিত হলো এলপিজি (LPG) বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। লাল সিলিন্ডারের এই গ্যাস মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ। এটি অত্যন্ত চাপে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভরা থাকে। অন্যদিকে, শহরগুলোতে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে পিএনজি (PNG) বা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস। এটি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে আপনার ওভেনে পৌঁছায়। এখানে সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, বরং জলের বিলের মতো আপনি যতটুকু ব্যবহার করবেন, ঠিক ততটুকুরই দাম দেবেন।
এছাড়াও রয়েছে সিএনজি (CNG), যা মূলত যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি পেট্রোলের তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। আর এই সব গ্যাসের উৎস হলো এলএনজি (LNG)। বিদেশ থেকে যখন জাহাজ বোঝাই করে মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গ্যাসকে তরল করে আনা হয়, তখন তাকেই এলএনজি বলে। ভারতে আসার পর সেই তরলকেই আবার গ্যাসে রূপান্তরিত করে পাইপলাইন বা সিলিন্ডারের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সরকারও এখন বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।