‘ভোট এলেই কেন পতাকা?’ জামুড়িয়ায় তৃণমূল-বিজেপি প্রার্থীদের ঘিরে ধরে তুলোধোনা আদিবাসী মহিলাদের!

ভোটের বাদ্যি বাজতেই সরগরম পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া। কিন্তু এবার রাজনৈতিক তকমার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-যন্ত্রণার প্রশ্ন। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আদিবাসী মহিলাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং এবং বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়। দুই যুযুধান শিবিরের প্রার্থীদেরই কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হলো এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে।

জামুড়িয়ার বৈরাগীবাগান এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন বর্তমান বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং। কিন্তু এলাকায় পা রাখতেই ধেয়ে আসে একগুচ্ছ ধারাল প্রশ্ন। “গত পাঁচ বছর কোথায় ছিলেন? কেন এলাকার উন্নয়ন হয়নি?“—মহিলাদের এই সরাসরি আক্রমণের সামনে কার্যত কোনো উত্তর দিতে পারেননি শাসকদলের প্রার্থী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোনো মন্তব্য না করেই দ্রুত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

অন্যদিকে, একই দিনে জামুড়িয়ার জোরজোনাকি আদিবাসী গ্রামে বাধার মুখে পড়ে বিজেপি। সেখানে প্রার্থীর আসার আগে গ্রামের পথ পতাকা দিয়ে সাজাতে গেলেই গর্জে ওঠেন মহিলারা। তাঁদের সাফ কথা, “ছ’মাস ধরে জল নেই, কিনে খেতে হচ্ছে। স্ট্রিট লাইট নেই, মাথা গোঁজার ঘর নেই। যখন দরকার ছিল তখন কেউ আসেনি, এখন ভোট এসেছে বলে পতাকা লাগাতে এসেছ?” বিজেপি নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের বঞ্চনার কথা তুলে ধরলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষিত প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়কে জেতানোর আর্জি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রচার সেরেই বিদায় নিতে হয় গেরুয়া শিবিরকে। জামুড়িয়ার এই ছবি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এবার আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে চিঁড়ে ভিজবে না।