বেতনভুক কর্মচারীদের জন্য বড় আপডেট! TDS সার্টিফিকেটে আমূল পরিবর্তন, ১ এপ্রিল থেকে নয়া নিয়ম!

চাকরিজীবীদের জন্য আয়কর জমা দেওয়ার পরিচিত নথি ‘ফর্ম ১৬’ (Form 16) এবার অতীত হতে চলেছে। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর বিধি, যেখানে ফর্ম ১৬-এর জায়গা নিচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এবং আরও বিস্তারিত তথ্যসমৃদ্ধ ‘ফর্ম ১৩০’ (Form 130)। মঙ্গলবার নবান্ন ও অর্থ মন্ত্রক সূত্রে এই প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।

কেন এই বদল? কী আছে ফর্ম ১৩০-এ? নতুন ফর্ম ১৩০ মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত থাকবে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে:

  • প্রথম ভাগ: নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর প্রাথমিক তথ্য।

  • দ্বিতীয় ভাগ: বেতন এবং কাটা হওয়া করের (TDS) সংক্ষিপ্ত হিসাব।

  • তৃতীয় ভাগ: করযোগ্য আয়ের বিস্তারিত ব্রেক-আপ এবং রিফান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য।

প্রযুক্তির কড়াকড়ি ও স্বচ্ছতা: নতুন নিয়মে এই ফর্ম আর ম্যানুয়ালি বা হাতে লিখে ইস্যু করা যাবে না। নিয়োগকর্তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিডিএস রিটার্ন ফাইল করতে হবে এবং পোর্টালের মাধ্যমেই এই ফর্ম জেনারেট হবে। এর ফলে করদাতার দেওয়া তথ্য এবং নিয়োগকর্তার তথ্যের মধ্যে গরমিল হওয়ার সুযোগ প্রায় থাকবে না বললেই চলে।

কারা সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবেন? সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে বেতনভুক্ত কর্মীদের ওপর। তবে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই পরিবর্তন কিছুটা স্বস্তির হতে পারে, কারণ পেনশন ও সুদের আয়ের হিসাব এখন আরও সহজে রিপোর্টে দেখা যাবে। অন্যদিকে, এনআরআই (NRI) এবং উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশে আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও ক্যাপিটাল গেইন সংক্রান্ত তথ্য এখন অনেক বেশি নির্ভুলভাবে দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে কর ফাঁকি দেওয়া বা ভুল তথ্য দেওয়ার সুযোগ কমবে। তবে করদাতাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে, কারণ সিস্টেম-নির্ভর এই ব্যবস্থায় হাতে করে সংশোধনের সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।