কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী আসিয়া আন্দ্রাবির যাবজ্জীবন! দীর্ঘ ৭ বছর পর ঐতিহাসিক রায় দিল্লির আদালতের!

জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অপরাধে বড়সড় সাজা ঘোষণা করল দিল্লির বিশেষ আদালত। নিষিদ্ধ সংগঠন ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’-এর প্রধান আসিয়া আন্দ্রাবিকে (Asiya Andrabi) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে মামলা চলার পর মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করল আদালত। আসিয়ার পাশাপাশি তার দুই সহযোগী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরীনকেও ৩০ বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটে কী ছিল? জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) ২০১৮ সালে আসিয়া ও তার দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ প্রচার, উপত্যকায় অশান্তি সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিলেন। উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে যুবসমাজকে বিপথে চালিত করা এবং ভারতবিরোধী প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে আসিয়া আন্দ্রাবি ছিল মাস্টারমাইন্ড।
কঠোর ধারা প্রয়োগ বিশেষ আদালত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর UAPA (Unlawful Activities Prevention Act) আইনের ১৮ নম্বর ধারা (ষড়যন্ত্র) এবং ৩৮ নম্বর ধারা (সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যপদ)-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, এদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য সরাসরি হুমকি। আদালত সেই যুক্তিকে মান্যতা দিয়েই এই কড়া সাজা শুনিয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের পতন আসিয়া আন্দ্রাবির প্রতিষ্ঠিত ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’ সংগঠনটিকে ২০০৪ সালেই কেন্দ্র সরকার বেআইনি ঘোষণা করেছিল। একসময় তারা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। ২০২৩ সালে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই তারা এই আবেদন করেছিল। এদিনের রায় উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্কের মাজা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।