মমতার সভায় কোটি কোটি সরকারি টাকা? বিস্ফোরক নথি ফাঁস করলেন শুভেন্দু!

ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে চড়ল পারদ। তৃণমূলের রাজনৈতিক জনসভাগুলিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থব্যয় করা হচ্ছে— এই মর্মে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, সরকারি দফতরগুলিকে ব্যবহার করে শাসকদলের প্রচার চালানো হচ্ছে।

শুভেন্দুর গুরুতর অভিযোগগুলি কী কী? শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পূর্ত দফতর (PWD) বর্তমানে তৃণমূলের কর্মসূচির প্রধান কারিগর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • পরিকাঠামো: সভার মঞ্চ নির্মাণ বাদে বাকি সব কাজ— যেমন অস্থায়ী রাস্তা, ব্যারিকেড এবং হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে সরকারি টাকায়।

  • আলোকসজ্জা ও সাউন্ড: সভার জেনারেটর, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি ডিসপ্লে এমনকি আলোকসজ্জাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি সম্পদ ও কর্মী।

  • নিরাপত্তা ও হ্যাঙ্গার: বড় আকারের হ্যাঙ্গার তৈরি এবং সভার নিরাপত্তা ব্যবস্থার যাবতীয় খরচ বহন করছে রাজ্য সরকার।

নির্বাচনী বিধিভঙ্গের দাবি: বিরোধী দলনেতার মতে, সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা ‘আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের শামিল। তিনি একে করদাতাদের অর্থের চরম অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন। শুভেন্দুর স্পষ্ট দাবি, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করুক এবং অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সেই টাকা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের থেকে আদায় করা হোক।

পাল্টা রণকৌশলে মমতা: এদিকে, অভিযোগের পাল্টা না দিলেও কর্মীদের সতর্ক থাকার কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু প্রচার শুরু করতেই মমতা তাঁর কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, ভোট শেষ হলেও যেন কেউ বাড়ি না যান। তাঁর আশঙ্কা, ভোট গণনার সময় ‘লোডশেডিং’ করে কারচুপি করা হতে পারে। স্ট্রং রুমে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ভোটের আগে এই ‘টাকা’ এবং ‘কারচুপি’র লড়াই বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।