কেরলে সিপিএমে ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা! সাজন পারায়িল আত্মহত্যা মামলায় অভিযুক্ত শ্যামলাকেই টিকিট পিনারাইয়ের?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই কেরল সিপিএমের অন্দরে আছড়ে পড়ল বড়সড় বিদ্রোহের ঢেউ। তালিপারাম্বা কেন্দ্রে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) প্রার্থী হিসেবে পি.কে শ্যামলার নাম ঘোষণা হতেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে ক্ষোভের আগুন। সৌজন্যে— বছর দশেক আগের সেই বিতর্কিত ‘সাজন পারায়িল আত্মহত্যা মামলা’।

ক্ষতের নেপথ্যে কী? ২০১৯ সালে অনাবাসী ভারতীয় উদ্যোক্তা সাজন পারায়িল তাঁর স্বপ্নের ১৬ কোটি টাকার কনভেনশন সেন্টারের জন্য ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ না পেয়ে আত্মঘাতী হন। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল তৎকালীন আন্তুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পি.কে শ্যামলার দিকে। সেই শ্যামলাকেই পিনারাই বিজয়ন সরকার প্রার্থী করায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।

দলে ভাঙন ও বিদ্রোহ: ছয় দশকের বামপন্থী কর্মী টি.কে গোবিন্দন দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিপিএম ত্যাগ করেছেন। শুধু তাই নয়, শ্যামলার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, নিচুতলার কর্মীদের আবেগ অগ্রাহ্য করে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের আশীর্বাদে এই প্রার্থীপদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিপিএম গোবিন্দনকে বহিষ্কার করলেও ড্যামেজ কন্ট্রোল করা কঠিন হচ্ছে।

ভোটের ময়দানে প্রভাব: মারাদুর ফ্ল্যাট ভাঙা থেকে আন্তুর পুরসভার দুর্নীতি— একের পর এক ঘটনায় কেরলের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী মালয়ালিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধী ইউডিএফ (UDF) ইতিমধ্যেই পুরসভা নির্বাচনে ভালো ফল করে চাপে রেখেছে বামেদের। এখন দেখার, ব্যালট বক্সে সাজন পারায়িলের ছায়া কতটা প্রভাব ফেলে।