৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি! ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি ট্রাম্পের, আকাশছোঁয়া তেলের দামে বড় ব্রেক

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে অবশেষে মিলল স্বস্তির ইঙ্গিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শক্তি পরিকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আগামী ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় ১৩ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে।

কেন এই আকস্মিক পতন? ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ১১২-১১৩ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। ট্রাম্পের আল্টিমেটাম এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প জানান:

  • ইরানের সঙ্গে গত দু’দিন ধরে অত্যন্ত “গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে।

  • এই আলোচনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই আগামী ৫ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না।

  • আলোচনার এই ধারা বজায় থাকলে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পথ প্রশস্ত হতে পারে।

বাজারের বর্তমান চিত্র: ট্রাম্পের বার্তার পরেই ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম প্রায় ১৭ ডলার কমে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন WTI ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫.২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ৫ দিনের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, তবে তেলের দাম আরও কমতে পারে।

ভারতের ওপর প্রভাব: মার্চের শুরুতে ভারতের তেল আমদানি ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। সৌদি আরব ও ইরাক থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তেলের দামের এই ১৩ শতাংশ পতন ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে। এবার দেখার, আন্তর্জাতিক বাজারের এই প্রভাব ভারতের পেট্রোল পাম্পগুলিতে কবে পৌঁছায়।