পাথরপ্রতিমায় অভিষেকের সভার আগে প্রকৃতির ভ্রুকুটি! জলমগ্ন মাঠ সারাতে নামল পাম্প ও ট্রাক ভর্তি বালি

মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইভোল্টেজ জনসভা। কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রকৃতি। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাথরপ্রতিমা কলেজ মাঠ কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সভার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর অনিশ্চয়তা। তবে সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সোমবার সকাল থেকেই রণংদেহি মেজাজে মাঠ সংস্কারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রশাসন ও ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি:
মাঠের জমে থাকা জল সরাতে একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসানো হয়েছে। কর্দমাক্ত জমি শুকানো সম্ভব নয় বুঝে তড়িঘড়ি ট্রাক ভর্তি সাদা বালি এনে মাঠ ভরাট করার কাজ চলছে। লক্ষ্য একটাই—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাস্থলকে জনসভার উপযোগী করে তোলা। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী রজতকুমার মান্না আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “বৃষ্টি বাধা দিলেও মানুষের আবেগে ভাঁটা পড়েনি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে, কালকের সভা সফল হবেই।”
নিরাপত্তার চাদরে পাথরপ্রতিমা:
অভিষেকের আগমন উপলক্ষে সোমবার থেকেই পাথরপ্রতিমার আকাশপথে দফায় দফায় হেলিকপ্টারের মহড়া চলতে দেখা গিয়েছে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে লজিস্টিক ও সুরক্ষা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন। বড়সড় পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সভাস্থল ও তার চারপাশের রাস্তায়।
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাথরপ্রতিমায় এবার চতুর্থবারের জন্য লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা ‘ভূমিপুত্র’ সমীরকুমার জানা। এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত জনসংযোগই দলের বড় অস্ত্র। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কেন্দ্রে বিরোধীদের লড়াই বেশ কঠিন। ২৪ মার্চের এই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন এবং তা সুন্দরবনের এই অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।