“জাহাজ পিছু ১৯ কোটি ‘চাঁদা’!”-হরমুজ প্রণালীতে আকাশছোঁয়া ‘টোল’ চাইল ইরান, চাঞ্চল্যকর দাবি

ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকালীন উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল বিশ্ব অর্থনীতির ধমনীতে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে থেকে এখন ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা দাবি করছে তেহরান। যা কার্যত বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানি নেতার বিস্ফোরক দাবি
ইরানের সংসদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি রবিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের বিপুল খরচ সামলাতেই এই ‘ট্রানজিট ফি’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তাঁর কথায়, “যেহেতু যুদ্ধের নিজস্ব খরচ আছে, তাই এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে মাশুল দিতেই হবে। এটি আসলে আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং শক্তির প্রতিফলন।” ### কেন বিপাকে জাহাজ কোম্পানিগুলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই দাবি শিপিং সংস্থাগুলোর সামনে বড় সঙ্কট তৈরি করেছে।
-
নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া: ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে কোনো কোম্পানি ইরানকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা দিলে তারা নিজেরাই আইনি জটিলতায় ফেঁসে যেতে পারে।
-
নির্বাচিত অবরোধ: ইরান বর্তমানে ‘সিলেক্টিভ ব্লকেড’ বা বেছে বেছে অবরোধ চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জাহাজকে (যেমন ভারত ও পাকিস্তানের কিছু ভেসেল) যাতায়াতের অনুমতি দিলেও, বাকিদের ক্ষেত্রে এই মোটা অঙ্কের মাশুল বা ট্রানজিট ফি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব?
ভারতের জন্য এই খবরটি মোটেও স্বস্তির নয়। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশ এই রুট দিয়ে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বা যাতায়াতের খরচ এভাবে আকাশছোঁয়া হলে ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ভারত নিজের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আনার জন্য নৌসেনার জাহাজ পাঠিয়ে সুরক্ষার বন্দোবস্ত করলেও, ইরানের এই নতুন ‘টোল’ নীতি বাণিজ্য মহলে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।