আরজি করে ভয়াবহ গাফিলতি! বাথরুমে যেতে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতেই মৃত্যু রোগীর

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফের অব্যবস্থার চূড়ান্ত নিদর্শন! ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি থাকা এক রোগীকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের বাইরে ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেটে পাঠানোর অভিযোগ উঠল। আর সেই শৌচালয়ের সিঁড়ি ভাঙতে গিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্ত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার খাস কলকাতার সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাত ২:৩০ নাগাদ আরজি করের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি হন বিশ্বজিৎবাবু। রাতে তাঁকে অক্সিজেনও দেওয়া হয়। ভোরে তিনি শৌচালয়ে যেতে চাইলে কর্তব্যরত কর্মীরা (পরিবারের দাবি চিকিৎসক) জানান, গ্রাউন্ড ফ্লোরে কোনও ব্যবস্থা নেই, রোগীকে হাসপাতালের গেটের ভেতরে থাকা বাইরের ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেটে নিয়ে যেতে হবে। অসুস্থ বাবাকে ধরে সেই শৌচালয়ের দোতলায় সিঁড়ি বেয়ে তুলতে যান তাঁর ছেলে বিশাল সামন্ত। কিন্তু সিঁড়িতে পা রাখতেই তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং সেখানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের ছেলে বিশাল সামন্তের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে সচল লিফট ছিল কি না আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের বলা হলো বাইরে নিয়ে যেতে। বাবা একটু স্টেবল ছিলেন বলে স্ট্রেচার নেওয়া হয়নি, কিন্তু সিঁড়ি ভাঙতে গিয়েই সব শেষ হয়ে গেল। গ্রাউন্ড ফ্লোরের রোগীরা কোথায় বাথরুম করবে, তার কোনও সদুত্তর নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।” হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের দাবি, নিচতলার রোগীরা সাধারণত বাইরের শৌচালয়ই ব্যবহার করেন। তবে কেন একজন মুমূর্ষু রোগীকে স্ট্রেচার বা লিফট ছাড়া সিঁড়ি ভাঙতে বাধ্য করা হলো, তা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগেই এই হাসপাতালেই লিফট বিভ্রাটের খবর শিরোনামে এসেছিল, আর এবার পরিষেবা না মেলায় প্রাণ গেল এক সাধারণ মানুষের।