ভবানীপুরে মোদির মেগা শো? দক্ষিণ কলকাতায় মমতার গড়ে পদ্ম-ঝড় তুলতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী!

আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে গেরুয়া শিবির। ব্রিগেড সমাবেশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিলোত্তমার রাজপথে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, খোদ দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতায় দু’টি বিশাল র্যালির পরিকল্পনা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষত, দক্ষিণ কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা রোড শো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই এলাকাতেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর। মোদির এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই পারদ চড়তে শুরু করেছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই দুই কর্মসূচি শুধুমাত্র জনসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গতবারের মতোই এবারও রোড শো এবং জনসংযোগের ওপর জোর দেওয়া হবে। উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থীদের সমর্থনে এই মিছিল দু’টিতে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদিও সঠিক দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই এই ঝটিকা সফর সারবেন মোদি। মোদির পাশাপাশি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও রাজ্যে আসতে পারেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়কাল ক্ষমতায় থাকা সরকার প্রধান হিসেবে নজির গড়েছেন। এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংয়ের দখলে। চামলিংয়ের ৮,৯৩০ দিনের রেকর্ড ভেঙে প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ ৮,৯৩১ দিনে পা দিলেন (গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মিলিত সময়)। এই রেকর্ড গড়ার পর প্রথম বঙ্গ সফরে আসা কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কলকাতার দুই প্রান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রধান কারণ হলো শহুরে ভোটারদের মন জয় করা। গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জনস্রোত আছড়ে পড়েছিল। এবার রাজপথে মোদির মেগা র্যালি গেরুয়া শিবিরের প্রচারের পালে কতটা হাওয়া দেয়, সেটাই দেখার।