বিজেপির বিক্ষোভে ‘তৃণমূলি অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্ব! বিস্ফোরক রাজু বিস্তা, উত্তরবঙ্গে পদ্ম-শিবিরে চরম অস্বস্তি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে বিজেপির অন্দরে যে দাবানল সৃষ্টি হয়েছে, তা নেভাতে এবার কড়া অবস্থান নিল গেরুয়া শিবির। রবিবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের জেলা নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। বৈঠক শেষে রাজু বিস্তা বিস্ফোরক দাবি করেন যে, দলের এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ‘তৃণমূল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা’।
অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব ও রাজু বিস্তার তোপ রাজু বিস্তা সাফ জানান, বিজেপিতে এমন অনেকে ‘অনুপ্রবেশ’ করেছেন যারা আসলে তৃণমূল থেকে টিকিট পাওয়ার লোভে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “বিজেপি একটি সুশৃঙ্খল দল। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে আসা কিছু নেতা এখন টিকিট না পেয়ে অশান্তি পাকাচ্ছেন। যারা প্রকৃত বিজেপি কর্মী, তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। কিন্তু যারা কেবল পদের লোভে এসেছেন, তারাই ভাঙচুর আর বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেন।” সাংসদের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে, কারণ তিনি পরোক্ষভাবে দলের ‘নব্য’ নেতাদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন।
ড্যামেজ কন্ট্রোল ও মোদি-শাহের সফর এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আসনে প্রচারের খামতি এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। ময়নাগুড়ি, মালবাজার, মাথাভাঙা এবং আলিপুরদুয়ারের মতো এলাকায় যেখানে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে, সেখানে কীভাবে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন সুনীল বনসলরা। এছাড়া জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলতে খুব শীঘ্রই আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীন। তারকা প্রচারকদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে এই বৈঠকে।
জোট নিয়ে আশ্বাস জিএনএলএফ-এর (GNLF) সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে রাজু বিস্তা দাবি করেন, পাহাড় বা সমতলে বিজেপির জোট অটুট রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত ছোটখাটো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। তবে নির্বাচনের মুখে নিজের দলের অন্দরের বিক্ষোভকে ‘তৃণমূলি অনুপ্রবেশ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া রাজুর এই কৌশল কতটা কাজে লাগে, সেটাই এখন দেখার।