মালদহে হুলুস্থুল! ভোটের মুখে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মালদহে। পুরাতন মালদার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের চেঁচু মোড়ে নাকা চেকিং চলাকালীন এক প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের গাড়ি থেকে একটি ৭ এমএম (7mm) পিস্তল উদ্ধার করেছে মালদহ থানার পুলিশ। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা ৬ জন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা প্রত্যেকেই প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোস্তাকিন আলমের আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে ধরা পড়ল আগ্নেয়াস্ত্র? পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল মালদহ থানার পুলিশ। সেই সময় একটি স্করপিও গাড়িকে সন্দেহভাজন মনে হওয়ায় আটক করা হয়। তল্লাশি চালাতেই গাড়ির সামনের ডিকি থেকে পিস্তলটি উদ্ধার হয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে। ধৃতদের বাড়ি ইংরেজবাজার শহরের ফুলবাড়ি ও কমলাবাড়ি অঞ্চলে। রবিবার তাদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
কংগ্রেসের ‘ভুল’ বনাম তৃণমূলের ‘প্রশ্ন’ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। কংগ্রেসের জেলা কার্যনির্বাহী সদস্য মান্তু ঘোষের দাবি, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি প্রাক্তন বিধায়কের বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিগত অস্ত্র। ঈদের আগে ব্যস্ততার কারণে সেটি ভুলবশত গাড়িতে থেকে গিয়েছিল। তাঁর দাবি, “এর পিছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই, রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে ঘোরানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। পুরাতন মালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান বিভূতি ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি অস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্তও হয়, তবে বিধায়ক নিজে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তা কেন অন্যদের হাতে বা গাড়িতে ছিল? নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা জনমনে প্রশ্ন তুলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, লাইসেন্সের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং ধৃতদের জেরা করে আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।