মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, ভারতে কি মহার্ঘ্য হবে তেল-গ্যাস? মোদীর জরুরি বৈঠকে তোলপাড় দেশ!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠতেই ভারতে তার আঁচ সামলাতে ময়দানে নামলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জরুরি পণ্যের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তার মাঝে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী।

শীর্ষ মন্ত্রীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। মূলত তেল, গ্যাস এবং সারের জোগান স্বাভাবিক রাখাই এখন মোদী সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন এই উদ্বেগ? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে স্থবিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ এই মুহূর্তে যুদ্ধের কারণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব, ইউএই, কাতার এবং ইজরায়েল-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই: স্বস্তির খবর যুদ্ধ শুরুর দিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছিল। তবে কেন্দ্র আশ্বস্ত করেছে যে:

  • দেশে এলপিজি সরবরাহ বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

  • আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং করার প্রবণতা কমেছে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলিকে বাণিজ্যিক গ্যাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

  • দ্রুত পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগ দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালোবাজারি রুখতে কঠোর প্রশাসন যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে গ্যাস বা সারের কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য দেশজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, বন্দরগুলিতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্র।

ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসন যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা সরকারের কাছে এখন অগ্রাধিকার। বিদেশের মাটিতে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলি প্রতি মুহূর্তে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইতিমধ্যে বহু ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।