৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন! ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হরমুজ না খুললে কি ধ্বংস হবে জ্বালানি কেন্দ্র?

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী স্নায়ুযুদ্ধ এবার চরম সংঘাতের দোরগোড়ায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানের সমস্ত প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র এবং তেল শোধনাগারগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই চরমপত্রের পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের মাটিতে একটি আঁচড় পড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে।
কেন এই আল্টিমেটাম? হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পা দেওয়ায় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ। ইরান দাবি করেছে, আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলি ছাড়া বাকি সবার জন্য পথ খোলা, কিন্তু বাস্তবে বীমা ও নিরাপত্তার অভাবে কোনো দেশই ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
গোপন আলোচনা ও কুশনারের এন্ট্রি মজার বিষয় হলো, একদিকে ধ্বংসের হুমকি দিলেও অন্যদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তলে তলে ‘শান্তি চুক্তি’-র ঘুঁটি চালছেন ট্রাম্প। সূত্রের খবর, নিজের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভেন উইটকফকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘প্যাকেজ’-এ ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কড়া লাগাম পরানোর বিনিময়ে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিলের টোপ দেওয়া হয়েছে। তবে ইজরায়েলের কট্টরপন্থী সরকার এই সমঝোতায় রাজি হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েই যাচ্ছে। এখন দেখার, ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা শেষে যুদ্ধের দাবানল স্তিমিত হয় নাকি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।