“বাংলায় ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে!” আইএএস-আইপিএস বদলি নিয়ে মোদীকে তীব্র আক্রমণ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসন বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য় পুলিশের ডিডির পর এবার আরও ৫ জন আইএএস (IAS) অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাঠাল কমিশন। এই গণ-বদলিকে “ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন” বলে আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, খাদ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে সরিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে রেশন পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে, আর তার জন্য দায়ী থাকবে বিজেপি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নির্বাচন কমিশন আজ বিজেপির তোতাপাখি। মোদীজি কি এতই ভয় পাচ্ছেন যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করাতে হচ্ছে?” পাল্টা জবাবে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখন মাটির গন্ধ বুঝতে পারছেন বলেই এমন আচরণ করছেন। এদিকে, এই বদলি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, যারা বাংলায় ভোটের কাজের অযোগ্য, তারা অন্য রাজ্যে কীভাবে পর্যবেক্ষক হতে পারেন? সোমবার এই মামলার শুনানি হবে।
অন্যদিকে, লাখ লাখ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের জন্য বড় খবর— আগামী সোমবার প্রকাশিত হতে চলেছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট। প্রায় ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ২৭ লক্ষের নিষ্পত্তি হলেও এখনও ৩৩ লক্ষ নাম ঝুলে রয়েছে। যদি এই তালিকায় নাম না ওঠে, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। এই ডামাডোলের মধ্যেই আজ স্ট্র্যান্ড রোডে শিপিং কর্পোরেশনের বিল্ডিংয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর।