পুরুলিয়ায় তৃণমূলের বড়সড় ভাঙন! সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতেই দল ছাড়লেন হেভিওয়েট নেতা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এল পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রয়াত বিধায়ক কে. পি. সিং দেওর পুত্র দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিংহ দেও দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন। ভোটের ঠিক আগে এই জনপ্রিয় নেতার দলত্যাগ পুরুলিয়ায় তৃণমূলের জয়ের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হয়েছিলেন সুজয়বাবু। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এবার কোনো নতুন বা স্থানীয় মুখকে প্রার্থী করা হোক। কিন্তু দল ফের সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা রাখায় ফেটে পড়েছেন তৃণমূলের একাংশ। দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিংহ দেওর অনুগামীদের দাবি, স্থানীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে হারের স্বাদ পাওয়া নেতাকেই পুনরায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিমান থেকেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল সরাসরি সুবিধা করে দিতে পারে বিজেপিকে। পুরুলিয়ায় বিজেপির প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই এই ভাঙনের ফলে অনেকটাই সহজ হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন তৃণমূলের ঘর ভাঙছে, অন্যদিকে তখন সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে ঘর গোছাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, এই আদি বনাম নব্যের লড়াই সামাল দিয়ে পুরুলিয়ার মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে পারে কি না জোড়াফুল শিবির।