তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরাতে মরিয়া বিজেপি! রানিগঞ্জে আইনজীবী বনাম নেতার লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি?

রানিগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে এবার বড়সড় রদবদল ঘটাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। দীর্ঘ বাম জমানা আর গত কয়েক বছরের তৃণমূল আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রানিগঞ্জ আসনে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ। শুক্রবার সকালে নিজের গ্রাম দুবচুড়ুরিয়ার বুড়ো শিববাবার মন্দিরে পুজো দিয়েই জোরকদমে প্রচার শুরু করলেন কলকাতা হাইকোর্টের এই বিশিষ্ট আইনজীবী।

রানিগঞ্জের মাটির ছেলে পার্থ ঘোষ রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত মুখ না হলেও, এলাকার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আশাবাদী দল। প্রচারে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “রানিগঞ্জে এই প্রথমবার বিজেপি জয়লাভ করবে।” তাঁর জয়ের তুরুপের তাস হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন এলাকার জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে। পার্থর অভিযোগ, রানিগঞ্জে দূষণ, লাগামহীন লোহা ও কয়লা চুরি এবং স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান না হওয়া—শাসক দলের এই ব্যর্থতাগুলোই তাঁর প্রধান হাতিয়ার।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় সামান্য ব্যবধানে জিতেছিলেন। এবার তৃণমূল সেখানে প্রার্থী বদল করে মন্ত্রী মলয় ঘটকের ঘনিষ্ঠ তথা দাপুটে নেতা কালোবরণ মণ্ডলকে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি ভরসা রেখেছে আইনজীবী তথা ভূমিপুত্র পার্থর ওপর। ২০২১-এ বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪১ শতাংশ, যা তৃণমূলের থেকে মাত্র ২ শতাংশ কম। সেই সামান্য ব্যবধান ঘুচিয়ে এবার রানিগঞ্জে প্রথমবার পদ্ম ফোটাতে মরিয়া বিজেপি। একদিকে দক্ষ সংগঠক কালোবরণ, অন্যদিকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পার্থ ঘোষ—এই দ্বৈরথে খনি অঞ্চলের মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।