শকুনের গায়ে জিপিএস! অসমের জঙ্গলে বিরল প্রজাতির পাখি ছাড়ল বন দফতর, আসল কারণ কী?

প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত শকুন আজ অস্তিত্বের সংকটে। গোটা এশিয়া মহাদেশ থেকেই ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে এই বিশালকায় পাখিরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বিরল প্রজাতির শকুনের বংশবৃদ্ধি ঘটাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল অসমের বন দফতর। কামরূপ জেলার রানি রেঞ্জের পক্ষীরালয় থেকে সম্প্রতি ৬টি বিরল ‘হোয়াইট রাম্পড ভালচার’ (White-rumped Vulture) বা সাদা পশ্চাৎদেশ বিশিষ্ট শকুনকে মুক্ত অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জিপিএস কেন লাগানো হলো? এই শকুনগুলিকে শুধু ছেড়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি বন দফতর। প্রতিটি শকুনের শরীরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক জিপিএস (GPS) ট্র্যাকার। এর মাধ্যমে বনকর্তারা প্রতি মুহূর্তে জানতে পারবেন পাখিগুলি কোথায় যাচ্ছে, কোন এলাকায় তারা নিরাপদ বোধ করছে এবং তাদের বিচরণক্ষেত্র কতটা বিস্তৃত। এই তথ্য ভবিষ্যতে শকুনের কৃত্রিম প্রজনন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কেন কমছে শকুনের সংখ্যা? বিশেষজ্ঞদের মতে, শকুনের সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ (যেমন ডাইক্লোফেনাক)। যখন কোনো পশু মারা যায় এবং শকুন সেই মৃতদেহ ভক্ষণ করে, তখন ওই ওষুধের অবশিষ্টাংশ শকুনের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটায়। এতে শকুনের কিডনি বিকল হয়ে অকাল মৃত্যু ঘটে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: অসম বন দফতর জানিয়েছে, এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে মোট ১০টি শকুন ছাড়া হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বেশ কিছু বিরল প্রজাতির শকুন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকারক ওষুধের ব্যবহার কমানোর বিষয়েও জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের টিকে থাকা অপরিহার্য, আর সেই লক্ষ্যেই এই ‘জিপিএস মিশন’ শুরু করল অসম সরকার।