বাকিংহাম প্যালেস থেকে খাম এল আন্দুলে! হাওড়ার দত্তচৌধুরী পরিবারকে শুভেচ্ছা পাঠালেন রাজা তৃতীয় চার্লস

হাওড়ার আন্দুলের এক জীর্ণপ্রায় প্রাসাদ। দেওয়ালে শতাব্দীর ধুলো আর স্তম্ভে লুকিয়ে থাকা হারানো সময়ের ইতিহাস। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ একদিন দরজায় কড়া নাড়ল ডাকপিয়ন। হাতে একটি খাম, যার ওপরে উজ্জ্বলভাবে খোদাই করা ব্রিটিশ রাজমুকুট এবং পাশে লেখা ‘বাকিংহাম প্যালেস’। স্বাধীনতার কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও ব্রিটেনের রাজপরিবারের সঙ্গে আন্দুলের দত্তচৌধুরী পরিবারের এই অটুট সংযোগ দেখে বিস্মিত অনেকেই।
চিঠিতে কী লিখেছেন রাজা? ৬ মে, ২০২৩ সালে ব্রিটেনের রাজা হিসেবে অভিষেক হয় তৃতীয় চার্লসের। সেই উপলক্ষ্যে এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজা তাঁর নিজস্ব স্বাক্ষরিত চিঠিতে লিখেছেন, “আপনার পাঠানো চিন্তাশীল বার্তার জন্য আমি অত্যন্ত অভিভূত। আশা করি আপনার বড়দিন শান্তিতে কেটেছে। আপনার উদার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এই কার্ডের মাধ্যমে আপনাকে নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”
দীর্ঘ ৩০ বছরের ঐতিহ্য: আন্দুল রাজবংশের একাদশ পুরুষ ধ্রুব দত্তচৌধুরী স্মৃতিচারণা করে জানান, এই চিঠি তাঁদের কাছে নতুন কিছু নয়। গত ৩০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে বাকিংহাম প্যালেস থেকে তাঁদের কাছে চিঠি আসে। ধ্রুববাবুর কথায়, “বাংলার আর কোনো বনেদি পরিবারে এমন চিঠি আসে কি না জানি না। আগে অনেক চিঠি আসত, কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে তা হারিয়ে গিয়েছে। অনেকে দেখতে এসে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেয় না।”
ইতিহাসের শেকড় যেখানে: এই অদ্ভুত যোগাযোগের সূত্রপাত সুলতানি আমলে। তেকড়ি দত্তের হাত ধরে এই বংশের উত্থান। ১৫৬৮ সালে রামশরণ দত্তচৌধুরী এই পরিবারে শারদীয়া দুর্গাপুজোর সূচনা করেন, যা আজও অমলিন। ঔপনিবেশিক যুগে মাধবচন্দ্র দত্তচৌধুরীর দক্ষতা ও সততায় মুগ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। সেই সময় থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে এই পরিবারের এক পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধ্রুব দত্তচৌধুরী গর্বের সঙ্গে জানান, তাঁর পূর্বপুরুষরা কোনোদিন ব্রিটিশদের অধীনে ছিলেন না, বরং এক স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাজবংশ হিসেবেই তাঁরা ব্রিটিশদের সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন। আজও লন্ডনের সেই রাজকীয় খাম প্রমাণ দেয় যে, ইতিহাস কখনও পুরনো হয় না।